রবিবার ০৮ মার্চ ২০২৬

২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ই-পেপার

Mohammed Suman

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৭,২০২৬, ০৯:১৩

বৈশ্বিক সংঘাতে জ্বালানি সংকট কি বাংলাদেশকে কঠিন বাস্তবতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক সংঘাতের কারণ ইতিমধ্যেই বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজারকে  নতুন অস্থিরতা মুখে ফেলেছে ।  হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তজার্তিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানি নির্ভর দেশ গুলোর ওপর।  বিশ্ব বানিজ্যের একটি বৃহৎ অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ন সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল  হওয়ার কারণে  সেখানে সামান্য উত্তেজনাও  বৈশ্বিক বাজারকে অস্থির করে তোলে।  

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।  সরকারি হিসেব মতে দেশে ডিজেল মজুদ আছে মাত্র ৭ দিনের যা একটি আমদানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি করার আশঙ্কা রাখে।  একই সময়ে এল এন জি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, বিদুৎ খাতে ড. ইউনুস এর সময়ে রেখে যাওয়া ১৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া এবং বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের  চাহিদা দেশের সামগ্রিক  নিরাপত্তাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে আন্তজার্তিক সরবরাহ সংকট।  চুক্তিভুক্ত দেশ কাতার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারনে এই মুহূর্তে তেল সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উন্মুক্ত বৈশ্বিক বাজার থেকেও বাংলাদেশ কাঙ্খিত সুবিধা অর্জন করতে পারছে না। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত চলমান পরিস্থিতিতে নিজ দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদার কথা উল্লেখ্য করে তেল উন্মুক্তভাবে বিক্রীতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   ফলে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। 

এমন বাস্তবতায় সরকার ইতিমধ্যেই ডিলেজ বিক্রিতে রেশনিং সিন্ধান্ত গ্রহন করেছে এবং দেশের সকল পেট্রোল পাম্পগুলোকে স্বাভাবিকের তুলনায় কম সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে । এটি প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি জরুরি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে।  বিশেষ করে কৃষি সেচ মৌসুম এখন চলমান যেখানে পরিবহন ব্যাবস্থাপনা ও মেশিনারিতে ডিজেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।  অন্যদিকে সামনে গ্রীষ্মকাল, এ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধিপায়। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়, যার প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন জীবনে । 

বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আমদানি নির্ভর এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রতি অতন্ত্য সংবেদনশীল।  তাই কেবল তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনাও এখন অপরিহার্য। জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ,  কৌশলগত মজুদ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং বিদুৎ খাতে অর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা -  এ বিষয়গুলোতে এখনই কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  

বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত বা যুদ্ধ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রনে নেই;  কিন্তু সেই সংঘাতের প্রতিঘাত মোকাবেলার সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্পূর্ণ ভাবে দেশের নিজস্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ওপর নির্ভরশীল।  বর্তমান সংকট তাই একটি সতর্কবার্তা, জ্বালানি নিরাপত্তাকে অবহেলা করার বিন্দু পরিমান সুযোগ নেই।
- সম্পাদক 

আপনার মতামত জানান :

মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন

(0)টি মন্তব্য

কেউ মন্তব্য করেনি :)