রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ই-পেপার

সম্পাদক, বাংলাদেশ.নিউজ

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ২১,২০২৬, ১০:৫১

বিএনপি’র মন্ত্রিসভা না কি মাফিয়া গডফাদারদের পুনর্বাসন ?

সভ্য রাষ্ট্রের সংসদ ও মন্ত্রী সভা হবে জনস্বার্থের; জবাবদিহিতা ও নীতি নৈতিকতার প্রতীক! যে রাষ্ট্রের শাসকগন যত বেশী জবাবদিহিতা ও সচ্ছতার রাজনীতির চর্চা করবে সেই রাষ্ট্র তত বেশি উন্নতির সাফল্য দেখবে এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব হবে। বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোর দিকে তাকালে আমরা যে সভ্যতার চিত্র দেখি, তার সাথে আমাদের প্রিয় মাতৃভুমির আদৌ কোন মিল চোখে পরেনা। কিন্ত আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা পরির্বতনের মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে জনগনের সাথে প্রতারনা করেই চলেছে। বাংলাদেশের এই নব‍্য মন্ত্রীসভার দিকে দৃষ্টি দিলেই আমরা বুঝতে পারি কেমন হতে চলেছে আগামীর বাংলাদেশ।  

সবার আগে দেশ? না’কি সবার আগে লুটেরা, সন্ত্রাস ও গর্ডফাদারদের পূর্নবাসন? 

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ব্যাক্তি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান, তিনি তার নবগঠিত ক্যাবিনেট যে সমস্ত মন্ত্রীদের দ্বারা অলংকৃত করেছেন তা রীতি মতো দেশের সচেতন ও প্রগতিশীল নাগরিকদের কপালে চিন্তার রেখা একে দিয়েছে, রাষ্ট্র চিন্তার।  

এখন প্রশ্ন চলে আসে যে কি নেই এই নতুন মন্ত্রী সভায়? সরকারী আমলা থেকে প্রভাবশালী ঋণখেলাপী,অপরাধী, ও মাফিয়াদের গর্ডফাদার, কোন টাইটেলই বাদ পরেনি এবং এটাই প্রমানিত ধ্রুব সত্য।  

মন্ত্রীসভা ও সংসদ সদস্যদের তথ্য ও পরিসংখ্যানই বলে দেয় এটি গনতন্ত্রের আড়ালে মাফিয়াতন্ত্রের এক নব অধ্যায় রচনার আরেকটি মেটিকুলাস প্ল‍্যন। নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন সংস্থার রির্পোটের তথ্য উপাত্ত ঘেঁটে দেখা যায় ৬২ শতাংশ সংসদ সদস্য খেলাপী ঋণে আক্রান্ত।  যাদের কাছে আটকে আছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।

এটি কে কোন ভাবেই সামান্য অনিময় বলা যায় না,  বরং বলতে পারি রাষ্ট্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধ। এই বিপুল পরিমান অর্থ যদি রাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে সচল করা যায় তবে শিল্প,বানিজ্য, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে জ্যামিতিক হারে। 

সবচেয়ে উদ্বেগ ও হতাশাজনক বিষয় হলো ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে বৈধতা দান ও আইনের দ্বিচারিতা। আইন ভেঙ্গে যারা সংসদে বসেছেন তারা কি জনকল্যানে আইন প্রণয়োন করবেন?  না’কি নিজেদের রক্ষার জন্য আইন তৈরী করবেন? এবং সেই বানানো আইন নিজের স্বার্থেই ব্যাবহার করবেন?  যারা আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় আসে তাদের হাতেই যদি আইন থাকে তবে রাষ্ট্রযন্ত্র টিকে থাকবে কিসের উপর ভিত্তি করে?  

বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্র প্রায় মৃত,  ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে জাতীয় বাজেটের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে।  এঘাটতি আগামী বছর বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদেরা।  
এমন অবস্থায় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামেলি কার্ড প্রকল্প বাজেটকে চাপে ফেলবে প্রায় ৯ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত অর্থ আসবে কোথা থেকে?  সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি কোন সুনিদৃষ্ট তথ্য, ফলে জাতিকে রাখা হয়েছে এক গভীর অন্ধকারে। 

সংসদ সদস্যদের ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে আটকে থাকা বিপুল পরিমান টাকার সাথে বিগত সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনূস যোগ করেছেন ভিন্নমাত্রা। বিদেশী ঋণ পরিশোধের বদলে তিনি নতুন করে ঋণ করেছেন প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা যা বিগত যে কোন সরকারের ঋনের পরিমাণকে হার মানিয়েছে। 
এটা যে রাষ্ট্রকে কতটা অস্বস্তিতে ফেলবে সেটাই দেখার বিষয়। এটা প্রমাণিত যে ড.ইউনুস রাষ্ট্রের চালকের আসনে বসেছিলেন রাষ্ট্রকে আর্থিক ভাবে দূর্বল করে দেয়ার জন্যেই।

রাষ্ট্রের অর্থনীতি যখন ভাংগা চাকা নিয়ে খাদের কিনারায় পৌছেছে ঠিক এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রী সভায় দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন  লুটেরা ও মাফিয়াদের। প্রশ্ন উঠে এই মন্ত্রীসভা কি নাগরিক কল্যানের জন্যে নাকি কোন সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, ও মাফিয়া গর্ডফাদারদের পূর্নবাসন কেন্দ্র?  

নব গঠিত মন্ত্রী সভার একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা সহ আদালত কতৃর্ক দন্ডাদেশ প্রাপ্ত ব্যাক্তিবর্গ। 

ভূমি দখল, চাঁদাবাজি সহ রয়েছে ২১ শে আগষ্টের মতো নৃসংশ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারীরাও। 
জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তবে কি ২১ শে আগষ্ট বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করার পুরষ্কার হিসেবে তাদেরকে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছে?  
২১ আগস্টে ২৪ টি তাজা প্রান ও গ্রেনেডের স্পিন্টার বয়ে বেড়ানো পংন্গু মানুষের আর্তনাদ এখনো বাতাসে কান পাতলেই শোনা যাই।  

যত বড় মাফিয়া তত বেশী মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব।
এ তালিকায় সবার উপরের সারিতে অবস্থান করছেন কুখ্যাত, ভূমি দস্যু ও দীপ্ত টিভির সংবাদ কর্মী হত্যার আসামী শেখ রবিউল আলম।  
শেখ রবিউল আমলের বিরুদ্ধে রয়েছে বনশ্রী, রামপুরা,হাতিরঝিলে রয়েছে একাধিক প্লট ও সরকারী জমি দখলের অভিযোগ।  

রাজনৈতিক আশ্রয় তাকে এসব এলাকায় ভূমি দস্যুতে পরিনত করেছে। খুব বেশী দিন আগের কথা নয়,  নিকট অতীতে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্লিজেন্ট পোর্পাটিজ লিমিটেড এর ফ্লার্ট নির্মান ও মালিকের সাথে সমাঝোতা না হওয়ায় ভুমি মালিকের ছোট ছেলে দীপ্ত টিভির সাংবাদিক কে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শেখ রবিউল আলম এর পরিকল্পনায়।  রাজনৈতিক আশ্রয় ও আদালতকে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে গ্রেফতার ও জামিন পেয়েছেন ২৪ শে ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে।  মামলার পি,বি,আই কর্মকর্তা ও বাদী পক্ষের আইনজীবি  অপকটে স্বীকার করেছেন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নায্যবিচার থেকে তামিমের পরিবার বঞ্চিত হচ্ছে। যা স্পষ্ঠভাবে প্রমান করে আইন কেবল একটি খোলস অথবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাকড়াসার জালের মতো -“ অপরাধী যদি শক্তি শালী হয় তবে আইনের কোন ক্ষমতা নেই তাকে শেকল বেড়িতে আবদ্ধ করার”।
শেখ রবিউল আলম দায়িত্ব পেয়েছেন একসাথে ৩ টি মন্ত্রনালয়ের -  সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপথ মন্ত্রনালয়ের।  

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দূর্নীতি হয় এই ৩ টি মন্ত্রনালয়ে। আবারও এই মন্ত্রনালয়গুলোতে এমন একজন আন্ডারওয়াল্ড গর্ডফাদারকে মন্ত্রীত্ব দানের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের জনগনকে কি বোঝাতে চাইছেন সেটাও সময় বলে দেবে। অর্থ লুট করার জন্য আর হাওয়া ভবন নয় বরং মন্ত্রনালয়ের বিশেষ দ্রষ্টব্যের মধ্যে লুটের অধ্যায়ের সূচনাই কি? 

এ তালিকায় আরও একজন ব্যাক্তি রয়েছেন পূর্নমন্ত্রীত্বের দায়িত্বে।  তিনি আর কেউ নন, সাম্প্রদায়িক দানব কাজী শাহ মোফাজ্জল হক কায়কোবাদ। আপদমস্তক এই মানুষটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা লালন করেন। বিএনপি-জামাত জোট সরকারে ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।

ঐ সময়ে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্টির উত্থান ঘটতে, একাধিক জঙ্গী গোষ্টির সাথে ছিলো তার সক্রিয় আতাত। ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সাথে রয়েছে তার নিবিড় সংযোগ। এই মোফাজ্জল হক গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবৎজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামি। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশে ফিরে তিনি বাগিয়ে নিলেন মন্ত্রীত্ব। এটা স্পষ্ঠ ইঙ্গিত দেয় যে এদেশে আবারো জঙ্গীবাদ লালনের তীব্র আকাঙ্খা পোষণ করছে এ সরকার। 

আরও একজন সাজা প্রাপ্ত কয়েদী ও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে অনত্যম এবং সয়ং গ্রেনেড সরবরাহকারি হচ্ছেন আব্দুস সালাম পিন্টু যিনি নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য টাঙ্গাইল ২ আসন থেকে। তার সহোদর ভাই নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল ৩ আসন থেকে। সরাসরি গ্রেনেড সরবারাহ কারী হিসেবে তাকেও পুরষ্কৃত করেছে তারেক রহমানের সরকার।  পিন্টুর ভাই টুকুকে দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিত্ব।

সব কিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যত বড় মাফিয়া তত বড় মন্ত্রীত্ব। দেশ এখন মাফিয়াদের অভয়রাণ্যে পরিনত হয়েছে সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের দ্বারা।

সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রী সভা এমন এক সময়ে গঠিত হলো যখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আস্থা ও স্বচ্ছ নৈতিক নেতৃত্বের।  কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হলো অনাস্থা ও মাফিয়াদের সেফ জোন। প্রশ্ন আসে রাষ্ট্রযন্ত্র কি টিকে থাকে ক্ষমতার জোড়ে?  না কি জনবান্ধব নেতৃত্বে?

আপনার মতামত জানান :

মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন

(0)টি মন্তব্য

কেউ মন্তব্য করেনি :)