বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ই-পেপার

সম্পাদক, বাংলাদেশ.নিউজ

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ১৮,২০২৬, ০৮:৪৮

টেকনোক্রেসি : ভূল পথে পা বাড়াঁলো তারেক রহমানের সরকার!

 পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের স্নায়ুকেন্দ্রে খলিলুর রহমান এর মতো বিতর্কিত টেকনোক্রেটকে বসানো কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ভুল নয়, এটি সচেতনভাবে নেওয়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত,।যার পরিণতি বহন করবে পুরো রাষ্ট্র। প্রশ্ন হলো, এই দায়িত্ব কি দক্ষতার স্বীকৃতি, নাকি রাজনৈতিক অক্ষমতার স্বীকারোক্তি?

আজকের বাস্তবতায় এটা স্পষ্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিজেই প্রমাণ করেছে যে তাদের ভেতরে রাষ্ট্র পরিচালনার মতো দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের চরম ঘাটতি রয়েছে। ৫০ জনের কেবিনেট সাজিয়ে, যেখানে মাত্র ৯ জন ব্যাতীত অধিকাংশেরই কোনো মন্ত্রীত্ব অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে টেকনোক্রেট আমদানি করা মানে নিজের দলকে নিজেই অযোগ্য ঘোষণা করা। রাষ্ট্র কি তবে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র?

সবচেয়ে ভয়াবহ দ্বিচারিতা প্রকাশ পেয়েছে খলিলুর রহমানকে ঘিরে। যাঁকে একসময় বিএনপির শীর্ষ নেতারাই বিদেশি নাগরিক, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, আজ তিনিই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তা। এই ইউটার্ন কি রাজনৈতিক প্রজ্ঞার নিদর্শন, নাকি স্মৃতিভ্রষ্টতার মহড়া? নাকি সত্যিই দলটি ধরে নিয়েছে জনগণ সব ভুলে যাবে?

খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কারচুপি, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নির্দিষ্ট দলকে জেতানোর অভিযোগ রাজনৈতিক কুৎসা নয়। এগুলো প্রকাশ্য অভিযোগ। এসব অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য জবাব না দিয়েই তাঁকে কূটনীতির চালকের আসনে বসানো মানে নির্বাচন ব্যবস্থার কফিনে আরেকটি পেরেক ঠুকে দেওয়া। এ দায়িত্ব দেওয়ার নৈতিক বৈধতা কোথায়?

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নামে তথাকথিত মানবিক করিডোর পরিকল্পনা আরও ভয়ংকর ইঙ্গিত দেয়। এটি মানবিকতা নয়। এটি ভূরাজনৈতিক দরকষাকষির করিডোর। এই চুক্তির মাধ্যমে কি দেশের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বহির্শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে? বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র এর সঙ্গে গোপন, নন-ডিসক্লোজার চুক্তির গুঞ্জন বাতাসে ভাসে।

এখানেই আসে সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন—খলিলুর রহমান কি তথাকথিত ডিপ স্টেটের পছন্দের মানুষ? নাকি তাঁকে বসানো হয়েছে নির্দিষ্ট কাউকে ক্ষমতায় আনার পুরস্কার হিসেবে? এই নিয়োগ যদি কেবল প্রশাসনিক হতো, তাহলে এত গোপনীয়তা, এত তড়িঘড়ি, এত ব্যাখ্যার অভাব কেন?

বিদেশি নাগরিককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশ আবারও নিজেকে এমন এক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করল, যে নিজের মেধা, নিজের রাজনৈতিক সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে পারে না। এই চিত্র অবধারিতভাবে মনে করিয়ে দেয় হেনরি কিসিঞ্জার এর সেই কুখ্যাত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ মন্তব্যকে যেটিকে আমরা এতদিন অপমান বলে অস্বীকার করে এসেছি, কিন্তু আজ যেন নিজেরাই তার প্রমাণ হাজির করছি।

কেউ কেউ একে মেজর জিয়ার রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের দর্শনের ধারাবাহিকতা বলে সাফাই গাইছেন। কিন্তু বাস্তবে যা হচ্ছে, তা বিকেন্দ্রীকরণ নয়। এটি রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অনির্বাচিত, অজবাবদিহিমূলক শক্তির হাতে তুলে দেওয়া।

সবশেষে দায় গিয়ে পড়ে তারেক রহমান–এর ওপর। ইতিহাস নির্মম, বিদেশি স্বার্থের সঙ্গে আপস করে গড়া পতুল সরকার কোনো দিন টেকে না। যারা ক্ষমতার শর্টকাট নিতে গিয়ে রাষ্ট্রকে দরকষাকষির পণ্যে পরিণত করে, তারা শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের আস্তাকুড়েই জায়গা পায়।

রাষ্ট্র কোনো পরীক্ষামূলক প্রকল্প নয়।।পররাষ্ট্রনীতি কোনো কন্ট্রাক্ট জব নয়। আর সার্বভৌমত্ব কোনো দরকষাকষির সামগ্রী নয়। এই সত্য অস্বীকার করলে ক্ষমতা মিলতে পারে, কিন্তু ইতিহাস নয়।

আপনার মতামত জানান :

মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন

(0)টি মন্তব্য

কেউ মন্তব্য করেনি :)