ফেব্রুয়ারি ০২,২০২৬, ১১:১৮

আধুনিক এই সমাজে এমন এক অদ্ভুত ‘অধিকারবোধ’ তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানও বাবা-মায়ের অসীম ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার বদলে তাঁদের প্রতি চরম উদাসীনতা দেখায়।
এমনকি অনেকে তো তর্কের মুখে বলেই বসেন, “আমরা তো জন্ম নিতে চাইনি, তোমরা আমাদের পৃথিবীতে এনেছ, তাই আমাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করা তোমাদের আইনি দায়িত্ব।”
ইসলামের সুশীতল ছায়ায় দাঁড়িয়ে যখন আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করি, তখন এর অসারতা খুব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
ইসলাম আমাদের শেখায় যে, একটি শিশুর পৃথিবীতে আসা কোনো কাকতালীয় ঘটনা বা কেবল মানুষের ইচ্ছার ফসল নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর এক নিপুণ পরিকল্পনা। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।” (সুরা শুরা, আয়াত: ৪৯)
সন্তানরা কোনো যান্ত্রিক উপজাত নয়, বরং তারা আল্লাহর দেওয়া এক পবিত্র আমানত। ‘জন্ম নিতে চাইনি’—এই যুক্তিটি মূলত রবের ইচ্ছাকে অস্বীকার করার নামান্তর। বাবা-মা হলেন সেই আমানত রক্ষার মাধ্যম, যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা একটি আত্মাকে এই নশ্বর পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাই বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মানেই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।
আপনার মতামত জানান :
মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন
(0)টি মন্তব্য
কেউ মন্তব্য করেনি :)