ফেব্রুয়ারি ২৪,২০২৬, ১০:৩৬

বিশ্বায়নের কারনে মানব জাতির জাতিসত্তার পরিচয়টি যে ধীরে ধীরে পরিবর্তমান তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বায়নের কথা উঠলে মানুষ হিসেবে আমরা ধরে নেই আধুনিকিকরনের মাধ্যমে প্রেক্ষাপটে পরির্বতন। আবার এই বিশ্বায়নের প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলো বাঙ্গালি জাতি এটা আমরা অকপটে ভুলে যাই। প্রবাহমান কাল থেকেই বাঙালি জাতি বিভিন্ন জাত- বর্ন-ধর্ম-শিল্প-সংস্কৃতির সম্মন্নয়ে গড়ে তুলেছে একটি সার্বজনীন নিজস্ব ভাষা- একমাত্র ভাষার উপর ভিত্তি করে জাতীয়তাবাদ ও জাতির সৃষ্টি। এটা বিশ্বায়নের এক সফল দৃষ্টান্ত।
বাঙ্গালী যেমন জাতিগত দিক থেকে উদারতা দেখিয়েছে, তেমনি সারা বিশ্বে একটি স্পষ্ঠ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে যে ভাষার জন্য নিজের বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামের কোন বিকল্প নেই।
বাংলা ভাষা, পৃথিবীতে বিদ্যমান ভাষা গুলোর মধ্যে অনেক প্রাচীন একটি ভাষা।
বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ প্রাচীন ইতিহাসই বলে দেয় এটি পৃথিবীতে কথিত সমস্ত ভাষাগুলোর মধ্যে কতটাই প্রবীণ। আমরা বাংগালিরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি এই সাবলিল মা’য়ের ভাষার উৎপত্তি প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর পূর্বে। যীশুখ্রীষ্টের জন্মের প্রায় ৩ হাজার বছর পূর্বে- "বেদ" এর রচনা হয় বলে ধারনা করা হয়। এই “বেদ”- এ বঙ্গ ও বাংলা শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। এথেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালী জাতির প্রাচীন ও সমৃদ্ধপূর্ন ইতিহাস কোন লুলুবাই বা ঘুম পারানি গান নয়।
একটি ভাষায় যত বেশী শব্দ সংযোজিত হবে সে ভাষার ইতিহাস তত বেশী সমৃদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে এটাও প্রমাণিত যে বাংলায় শব্দ প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টি। এ থেকে আমরা বলতে পারি উর্দু বা হিন্দী ভাষার চেয়ে কয়েক হাজার বছর পুরনো আমার মাতৃভাষা - বাংলা।
বিশ্বের প্রতিটি ভাষায় কিছু বিদেশী শব্দ ব্যাবহৃত হয়, বিশ্বায়নের ধারাবাহিকতায় তার ব্যাতিক্রম বাংলা ভাষায়এ দেখা যায়নি, তবে ভাষাতাত্বিকদের হিসেব মতে বাংলা ভাষায় মাত্র ৮% বিদেশী শব্দ ব্যাবহার করতে দেখা যায়। যদিও এই শব্দ গুলোর নিজস্ব বাংলা প্রতিশব্দও আমাদের শব্দ মালাতেই বর্তমান রয়েছে।
তবে এই শব্দ গুলো বাংলা ভাষায় সহযোগী শব্দ হিসেবে জায়গা পেয়েছে লোকমুখে ব্যাবহারের কারনে। উপমহাদেশে আর্য ভাষার যে প্রাচীনতম বর্নমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রীষ্ট পূর্ব তৃতীয় শতকের সম্রাট অশোকের শাসনের সময়কার। বগুড়ায় মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত শীলালিপির সাথে এর মিল পাওয়া যায়। এসব নির্দশন আমাদের ভাষার ব্যাবহার ও বর্নমালার উৎপত্তির সময়কাল জানাতে ভূমিকা রেখেছে।
বাংলা ভাষা ও বাংলা বর্নমালার বয়স প্রায় কাছাকাছি, এবং শুরু থেকে বাংলা ভাষাকে বর্নমালা দিয়ে লেখা হতো বলে বাংলা ভাষা পৃথীবিতে প্রাচীন ভাষা গুলোর মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশ সমৃদ্ধির সংগেই সক্ষম হয়েছে।
ভাষাকেন্দ্রিক জাতির মতো বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করেই গরে উঠেছিলো আমাদের আজকের বাংগালি জাতি। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, কখনো কখনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কারনে কোন জাতি যখন নিজস্ব ভাষা বর্জন করে অন্য ভাষা গ্রহন করেছে তখন সেই জাতি তার নিজস্ব জাতিসত্বা হারিয়ে ফেলেছে, হারিয়ে ফেলেছে তার নিজস্ব সংস্কৃতি। উদাহরন হিসেবে মিশরীয় সভ্যতা বা ইজিপ্টের সভ্যতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সপ্তম শতাব্দীতে মিশরে আরবীয় মুসলমানেরা অনুপ্রবেশ করার কারনে মিশরীয়রা আবরী ভাষা গ্রহন করলে তারা বিশ্বে আরব জাতি হিসাবে পরিচিতি পায়।
পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্টি ঠিক একরকম একটি কাজ করে বিশ্ব থেকে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি মুছে ফেলার অভিপ্রায়ে আমাদের উপরে উর্ধু চাপিয়ে দেবার প্রবণতা করে। অথচ ১৯৪৭ সালে যখন দেশ ভাগ হবে ধর্মীয় বিশ্বাসের উপরে, তখনই বাঙ্গালী নেতারা ভাষার ব্যাবহার এর গুরুত্ব বুঝতে পেরে “ভাষার উপর সমঅধিকার” - এই মর্মে ব্রিটিশদের কাছে রিট আবেদন করে।
ভাষা ও জাতি সত্বা নিয়ে বাঙ্গালী জাতি যে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে এটাও সুপ্রতিষ্ঠিত।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হয় দ্বি-জাতি তত্বের ভিক্তিতে।
তবে মুলত এটি ছিলো দ্বি-ধর্মীয় তত্বের ভিক্তিতে। পাকিস্তান বা হিন্দুস্তান সৃষ্টির প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে বাঙ্গালী জাতির সৃষ্টি হয় ভাষা ও সংস্কৃতির উপর ভিক্তি করে। তার পরেও দ্বি-জাতি তত্বের নামে একটি প্রাচীন জাতিকে পাকিস্তানের কলোনিতে রুপান্তর করা ছিলো শুধু মাত্রই রাজনৈতিক অপচেষ্টা যা পাকিস্তানের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই আঁচ করা যায়। পাকিস্তানী শাসকেরা বাঙ্গালী জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাসের গুরুত্ব বুজতে পেরেই তারা প্রথমে ভাষার উপর বল প্রয়োগ করতে থাকেন। জিন্নাহ্ ১৯৪৮ সালে ঢাকায় সফরে এলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোষনা দেন “উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা”। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, উর্দু মুসলমানদের ঐক্যের প্রতীক, দুই পাকিস্তান যেহেতু একটিই মুসলিম রাষ্ট্র সেখানে একটি মাত্র রাষ্ট্র ভাষা থাকাই বান্চনীয়। তারা প্রচার করাতে শুরু করে যে উর্ধু পবিত্র ভাষা, ইসলামিক ভাষা, তাই উর্দুকেই রাষ্ট্র ভাষা করতে হবে অথচ তখনকার হিসেবে পাকিস্তানের ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা বাংলা।
উর্ধু রাষ্ট্র ভাষায় পরিনত হলে এদেশের শিক্ষিত নাগরিকরা রাতারাতি অশিক্ষিততে পরিনত হতো, সরকারী চাকরীতে তাদের যোগ্যতা হারাতো, বিশ্ব সাহিত্যে তাদের গ্রহন যোগ্যতা হারাতো। ফলে এসব বৈষম্য মেনে না নিয়ে সকল ধর্মবর্ন নির্বিশেষে জনগন-ছাত্র - শ্রমিক ও দিনমজু্রেরা ভাষা আনন্দোলনেকে সর্বাত্মক ছড়িয়ে দিতে সহযোগীতা করেছিলো।
দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়ার অবসান ঘটে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীতে। পাকিস্তান সরকারের ১৪৪ ধারা অবজ্ঞা করে রাস্তায় নেমে আসে সমাজের সকল স্তরের জনগন। ভাষার দাবিতে তারা পাকিস্তান সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে উচ্চারন করে "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই - উর্দু মানি না মানবো না "
সম্মিলিত কন্ঠে গাওয়া হয় “ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়”।
স্লোগানে স্লোগানে মিছিলটি মুখরিত হয়ে যখন একটি স্মারক লিপি জমা দেবার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে পুলিশের বল প্রয়োগে ও পুলিশের গুলিতে নিহত হন রফিক,বরকত,শফিক,জব্বার সহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা। তাদের শহীদ হবার খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পরতেই ভাষার ঐ সর্বস্তরের আনন্দোলন বেগ পায়। ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে। ভাষা আনন্দোলন কে কেন্দ্র করে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ প্রবল হারে প্রকাশ পায় যে কারনে এই ভাষা আনন্দোলনকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের শেকড় বলা হয়।
২১ শে ফেব্রুয়ারী শুধু একটি তারিখ নয়, বাঙ্গালী জাতির অধিকার, আত্মপরিচয়, এবং সাহসের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এ দিনে ভাষার জন্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, মাতৃভাষায় কথা বলতে পারার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রান উৎর্সগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এছাড়াও বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা গ্রেফতার হন।
ভাষা আনন্দোলন একটি জাতির পরিচয় আত্মপ্রকাশের আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনে নিজের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ রক্ষার আন্দোলন।
ভাষা আন্দোলনের মহত্বে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠে, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রামের মাধ্যমে, কোন ধর্মীয় পরিচয় এর জন্য নয়।
তাই জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের স্মরণে জাতীয় শহীদ মিনার কে করা হয় ধর্ম নিরপেক্ষ ও জাতীয় ঐক্যের প্রতিক। এটি শ্রদ্ধা নিবেদনের জায়গা, এটা কোন মসজিদ নয় যে এখানে মোনাজাত করা যায়।
এখানে কেবলই নীরবতা, ফুলের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানোই যথেষ্ঠ। এখানে মোনাজাত ধরার অর্থ হলো রাষ্ট্রে বসবাস রত সংখ্যা লঘুদের মনে সরাসরি রাষ্ট্রীয় মদদে আঘাত করা, যা ভাষা আন্দোলনের মহত্বকে সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে। এই কারনেই বিশ্বের সকল প্রান্তের বাঙ্গালীরা সামিল হয়ে অমর ২১শে কে বরন করে যথাযথ মর্যাদার সংগে।
ভাষার বৈচিত্রতা, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার, ও জাতি হিসাবে ভাষার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হবার গুরুত্বকে বিশ্ববাসীর কাছে ১৯৯৯ সালে তুলে ধরেন তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২১ শে ফেব্রুয়ারীর গুরুত্ব ও মহত্ব বুঝতে পেরে ১৭ ই নভেম্বর ১৯৯৯ সালে UNESCO এই দিন টি কে আন্তর্জাতিক ভাবে মাতৃভাষা দিবস পালনের সিন্ধান্ত নেয়। ২০০০ সাল থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারী যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন হয়ে আসছে।
শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তাবক দিয়ে নীরবতার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে রাষ্ট্র তার ধর্ম নিরপেক্ষতার বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে। বাংলাদেশ সৃষ্টির একটি স্তম্ভ হলো ধর্মনিরপেক্ষতা, বুঝতে হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, বরং সকল ধর্মের প্রতি সমশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা।
৭৪ বছর পরে জাতীয় শহীদ মিনার প্রাংগনে ঘটলো এক নজিরবিহীন কান্ড; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় রেওয়াজ ও রীতি ভেঙ্গে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এলেন রাষ্ট্রপতি বিহীন। এখানেই শেষ নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষতার শর্তভঙ্গ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে মোনাজাতে অংশ নিলেন, যা রাষ্ট্রে বসবাসরত অন্যসব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের স্পর্শকাতর অনুভুতিতে আঘাত আনে। অথচ তারেক রহমানের ক্ষমতায় আসার পেছনে সংখ্যা লুঘু সম্প্রদায় তাকে নির্বাচনে জিততে সহযোগীতা করেছে বলে নিজমুখে স্বীকার করলেও অলৌকিক কোন চাপে তিনি এমন ন্যাকারজনক কাজে অংশ নিলেন তা জাতির কাছে তার আদর্শ কে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পর্দার আড়ালে তারেক রহমান কি রাষ্ট্রীয় আর্শীবাদে সাম্প্রদায়িকতার বীজ লালন করছেন? রাষ্ট্রীয় মদদে কি ধর্মীয় চেতনা প্রবেশ করছে জাতীয় প্রতীকে, সর্বোপরি জাতীয়তাবাদে?
শহীদ মিনার একটি সার্বজনীন সৃত্মীস্কম্ভ, এখানে ধর্মীয় ছাপ দেওয়া মানে, রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়া। যা রাষ্ট্রে অনৈক্য সৃষ্টি করবে বলে সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় মনে করে।
জাতির বিবেকে আজ প্রশ্ন - রাষ্ট্রকি তার জাতিস্বত্তা ভূলতে বসেছে? রাষ্ট্র গঠন করা হয়েছে ভাষা,সাহিত্য সংস্কৃতির উপর বিশ্বাস করে, ধর্মের উপরে নয়।
২১ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি জাতি গড়ে উঠে ঐক্যের মাধ্যমে, বিভেদে নয়। ভাষা শহীদেরা প্রান উৎসর্গ করেছে একটি বহুমাত্রিক জাতির অধিকারের জন্য, ধর্মের জন্য নয়। রাষ্ট্রের প্রধান যদি সেই সীমারেখা বুঝতে ব্যার্থ হয়, তবে শহীদ মিনার আর জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসাবে থাকবে না, বরং সেটি হয়ে যাবে সাম্প্রদায়িকতার নিঃশব্দ সাক্ষী।
২১ আমাদের শেখায় ভাষা, অধিকার, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
ধর্মের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র যদি এই বৈধতা বা আইনের গ্রহণযোগ্যতা বুঝতে ব্যার্থ হয় তবে রাষ্ট্র পরিচালনার বৈধতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পরে।
- সম্পাদক
আপনার মতামত জানান :
মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন
(0)টি মন্তব্য
কেউ মন্তব্য করেনি :)