মার্চ ০৫,২০২৬, ১০:৩৫

অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ কোন বাক্তিগত সুরক্ষা বলয় তৈরীর সাংবিধানিক লাইসেন্স নয় নিশ্চই। অথচ ক্ষমতার শেষ মূহূর্তে এসে ড. ইউনুস যে কাজটি করেছেন তা রাষ্ট্রকে নিজের স্বার্থ রক্ষার যন্ত্রতে পরিনত করার কূৎসিত মনের বহিঃপ্রকাশ ছারা অন্য কোন উপমা দেয়া যায়না। ড. ইউনুসের ১৮ মাসের শাসনকাল জুড়ে সংস্কারের অযুহাত দেখিয়ে কি কি নিজ স্বার্থ আদায় করে নিয়েছেন সেদিকে তাকালে অবাক হতে হয় এই ভেবে যে একজন মানুষ কি করে এতো টা আত্মকেন্দ্রীক হতে পারেন।
প্রফেসর ইউনুস তার ১৮ মাসের শাসনামলে নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ঋণ ও সুদ মওকুফ, নিজের নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স গ্রহন - এসব কর্মকাণ্ড কেবলমাত্র নৈতিক স্কলনের চিত্রই নয় বরং ক্ষমতান পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ক্ষমতা অপব্যাবহারের সুস্পষ্ট দৃশ্যায়ন। এসব ছারিয়েও নোবেলজয়ী এই স্বার্থপর মানুষটি সবচেয়ে ভয়াবহতার নজির স্থাপন করেছেন ঠিক বিদায় নেবার প্রাক্কালে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, অতি গোপনীয়তার সঙ্গে জারি করা এক অধ্যাদেশের মাধ্যমর সাবেক উপদেষ্টা নিজেকে দায়িত্ব হস্কান্তরের পর এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি (VVIP) ঘোষণা করেছেন। এর ফলে তিনি আগামী একবছর পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ( এস,এস,এফ) এর পূর্ন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভোগ করতে পারবেন। প্রশ্ন হলো কোন আইন, কোন নৈতিকতা বা কোন সাংবিধানিক ভিত্তিতে?
২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা এসআরও নং ২৮৫ অনুয়ায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্ব স্ব পদে দ্বায়িত্ব ছাড়ার তারিখ হতে সর্বোচ্চ তিন মাস অতি গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি হিসেবে ঘোষনা করার বিধান ছিলো। এই আইন সার্বজনীন, ব্যাক্তিনিরপেক্ষ এবং সময়সীমাবদ্ধ।
কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারী গোপনে এক অধ্যাদেশ জারি করেন ড.ইউনুস, এবং সেই বিধান সংশোধন করে কেবল একজন ব্যাক্তি,অর্থাৎ বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে ১ বছর করা হয়েছে। অন্য কোন পদধারীর ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য করা হয়নি। এখানে স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে সংবিধানের মৌলিক নীতি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আইনের বিধান জনকল্যানের জন্য সার্বজনীন, ব্যাক্তি বিশেষের জন্য নয়।
কোন নিদৃষ্ট ব্যাক্তির সুবিধা নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন করা ক্ষমতার অপব্যবহার ও গুরুতর অপরাধ এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এই অধ্যাদেশ কেবল অসাংবিধানিক নয়, এটি একটি ব্যাক্তি কেন্দ্রীক আইন, যা সাংবিধানিক কাঠমোর মৌলিক অবস্থানে আঘাত করে। মোটকথা এটি নৈতিকতার সম্পূর্ন অবক্ষয়।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন হলো, যতি নিরাপত্তার ঝুঁকি এতটাই বাস্তব ও দৃশ্যমান হয় তবে কেন এই আইনের সুবিধা বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রথানমন্ত্রী বা আইনে বর্নিত অন্যদের জন্য প্রযোজ্য হলো না ?
উত্তরটাও স্পষ্ট - নিরাপত্তা নয় বরং নিজের জন্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিশ্চিত করাই ছিলো এই ভীষন আত্মকেন্দ্রিক ও রাষ্ট্রদ্রোহি মানুষটির মূল উদ্দেশ্য।
যেহেতু অন্তর্বতী সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয় কাজেই এই সরকারের শক্তি নির্ভর করে জনগনের আস্থা ও নৈতিক বৈধতা থেকে। সেই আস্থার মূল শর্তই হলো ক্ষমতার সীমিত ব্যাবহার, দেশ আগে মনোভাবের প্রদর্শন ও ধারন, নিরপেক্ষ ও সংযত। স্পষ্ট দৃশ্যমান যে প্রফেসর ইউনুস ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্বিচিত যে কোন সরকারের চেয়েও হাজার গুন বেশী যা তাকে ভীতু করে তুলেছে। ফলস্বরূপ তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পূর্বে অত্যন্ত গোপনে নিজের ভিভিআইপি মর্যাদা নিশ্চিত করতে একটি অবৈধ প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন যেটা জনগনের সেই আস্থাকে সরাসরি আঘাত করেছে, ভেঙে দিয়েছে। ক্ষমতা সাময়িক হলেও ক্ষমতার অপব্যাবহারের দলিল স্থায়ী।
রাষ্ট্রকে ব্যাক্তিগত সুরক্ষা বলয়ে পরিনত করার এই সুপরিকল্পিত দৃষ্টান্ত ইতিহাসে লজ্জাকর অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
যারা নৈতিকতার কথা বলে, তাদের কাছে থেকে যদি এমন ক্ষমতার অপব্যাবহারের আচরন লক্ষ্য করা যায়, তবে শুধু ব্যাক্তি নয় বরং রাষ্ট্রের জন্যও এটি অপমান জনক।
বর্তমান সরকারের উচিত হবে এই অবৈধ অধ্যাদেশের পরিপূর্ণ তদন্ত করে সেটা বাতিল ঘোষণা করা।
সাংবিধানিক মৌলিক কাঠমো লঙ্ঘন ও স্বার্থসিদ্ধির এমন ন্যক্কারজনক অপচেষ্টার জন্য প্রফেসর ইউনূসকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে এর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার। কারন আইন সবসময়ই হতে হবে সার্বজনীন - কেউ আইনের ঊদ্ধে নয়।
সম্পাদক
আপনার মতামত জানান :
মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন
(0)টি মন্তব্য
কেউ মন্তব্য করেনি :)