রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৬ মাঘ ১৪৩২

ই-পেপার

dainik bangladesh

প্রিন্ট সংস্করণ

জানুয়ারি ২৪,২০২৬, ০৯:৫৭

অচল হয়ে পরেছে চট্টগ্রাম বন্দর : জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ও জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিকে জাতীয় অর্থনীতির জন্য ‘মহাবিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ ১০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিটিটিএলএমইএ, বিজিএপিএমইএ ও বিজিবিএ।

বিবৃতিতে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম জাহাজ চলাচল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্দর এক দিন বন্ধ থাকলেই অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়। চলমান অচলাবস্থায় তৈরি পোশাকসহ সব রপ্তানিমুখী শিল্পের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যা দেশকে অপূরণীয় ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, একদিকে কারখানাগুলোর কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্য বন্দরে আটকে থেকে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দেওয়া ‘ডেডলাইন’ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি আরো কয়েক দিন বজায় থাকলে বড় ধরনের ক্রয়াদেশ বাতিলের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং প্রত্যাহারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তারা আরো বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাত ইতিমধ্যে চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।

উদ্যোক্তারা প্রাণান্তকর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে বন্দরের অচলাবস্থার কারণে ভয়াবহ কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডেমারেজ, পোর্ট চার্জ ও স্টোরেজ রেন্ট বেড়ে গিয়ে উৎপাদন খরচ আরো বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত রপ্তানি পণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে এই অতিরিক্ত ব্যয় আমদানীকৃত পণ্যের দামের ওপরও সরাসরি পড়বে। সামনে পবিত্র রমজান মাস।

আপনার মতামত জানান :

মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন

(0)টি মন্তব্য

কেউ মন্তব্য করেনি :)