বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২২ মাঘ ১৪৩২

ই-পেপার

dainik bangladesh

প্রিন্ট সংস্করণ

জানুয়ারি ২৪,২০২৬, ১০:১২

সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ সুগারবিটে চিনি উৎপাদন

সুগারবিট এমন একটি ফসল যা দেশের চিনি চাহিদা পূরন করার পাশাপাশি বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।

 

যেখানে আখে চিনি থাকে ৭/৮ শতাংশ সেখানে সুগারবিটে চিনির পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ । সুগারবিট থেকে সুস্বাদু গুড়ও তৈরি হয়। মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসেই সুগারবিট উৎপাদন হয়। মিলে নিয়ে চিনি করতে আরো এক মাস লাগে , সর্বোমোট ৫ -৬ মাসের মধ্যে সুগারবিট দিয়ে চিনি উৎপাদন সম্ভব।

ফলে কৃষকরা স্বপ্ল সময়ে সুগারবিট চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন । সুগার বিটের সাথে অন্যান্য ফসল চাষ করা যায়। বাংলাদেশের চরঅঞ্চল এলাকা সুগারবিট চাষে উপযোগী। ইতিমধ্যে পরীক্ষাগারে সুগারবিট চাষ ও গুড় উৎপাদনে সফল হয়েছে। সুগারবিট সম্ভাবনাময় ফসল। এটি চাষের মাধ্যমে দেশের চিনি ঘাটতি মোকাবেলা করে রপতানি করাও সম্ভব।

সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদনে দেশের চিনিকলগুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে সরকার ১শ ১৯ কেটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ঠাকুরগাঁও চিনিকল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড়, দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ ও রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল এলাকায় চাষ করা হচ্ছে সুগারবিট।

অধিকাংশ মাড়াই মওসুমে আখের অভাবে চিনিকল প্রায় এক দুই মাস বন্ধ থাকে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আখ গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে সুগারবিট চাষ শুরু করে। আর এর ফলন আশান্বিত করেছে বিজ্ঞানীদেরকে। দেশে সুগারবিট ফলনও বেশ ভালো। সুগারবিটের রস থেকে গুড় উৎপাদন করে এর মিষ্টির পরিমানও যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক সময়ে সুগারবিটের রোগবালাইসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে করণীয় বিষয়ে উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

এবছর বাংলাদেশ ট্রপিক্যাল সুগারবিট উৎপাদন ও বিস্তার কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ১২টির আওতায় সুগারবিট চাষ শুরু হয়েছে।
দেখতে মূলা বা শালগমের মতো প্রতিটি সুগারবিটের ওজন হয় পাঁচ থেকে ছয় কেজি। আখ গবেষণা কেন্দ্রে সুগারবিটের রস থেকে গুড় তৈরি করা হয়। এ গুড়ের স্বাদও অপূর্ব। চিনি আহরণের হারও আখের চাইতে তুলনামূলকভাবে বেশি, অর্থাৎ ১২-১৪ শতাংশ। দেশে সুগারবিটের পাঁচটি জাত চাষ করা হচ্ছে। এগুলো হলো, শুভ্রা, কাভেরি, সি-গ্রিন, ইবি ০৫১৩, ০৬১৬, ০৬১৭ ও ০৬২১ জাত। সুগারবিটের উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৮০-১০০ মে. টন পর্যন্ত।

সুগারবিট একটি দ্বিবর্ষী শস্য। উঁচু, মাঝারি উঁচু ও সমতল জমির দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি যেখানে পানি দাঁড়ায় না এমন মাটি সুগারবিটের জন্য উত্তম। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এর বীজ বপণ করতে হয় এবং অব্যাহত পরিচর্যায় ছয় মাসের মধ্যে এর ফলন তোলা যায়।

সুগারবিট এমন একটি ফসল যা দেশের চিনি চাহিদা পূরন করার পাশাপাশি বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা জানায়, আখ চাষ করতে সময় লাগে ১২ থেকে ১৫ মাস। অথচ সুগারবিট আবাদ করে চিনি উৎপাদন পর্যন্ত সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় মাস। ফলনের দিক দিয়ে আখের চেয়ে সুগারবিটের উৎপাদনও বেশি। অর্থাৎ হেক্টর প্রতি সুগারবিট উৎপাদন হয় প্রায় ৮০-১০০ টন। কিন্তু দেশীয় জলবায়ুতে এর বীজ উৎপন্ন করা কঠিন। ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও স্পেন থেকে এর বীজ আমদানি করতে হয়।

“আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল। আর সুগারবিট কম সময়ের ফসল। বর্তমানে দেশে যে চিনিকল রয়েছে সেগুলোতে মাত্র একটি ডিফিউজার প্ল্যান্ট স্থাপন করে সুগারবিট থেকে চিনি উৎপন্ন করা সম্ভব। এতে দেশের চিনির চাহিদা পূরণ হবে।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুগারবিট থেকে চিনি উৎপাদন করা হয়। তাই দেশের চিনির সংকট মোকাবিলায় আখের বিকল্প সুগারবিট চাষ করা জরুরী। দেশে চিনির মোট চাহিদা ২৫ লাখ মে.টন। এর মধ্যে দেশে আখ থেকে চিনি ও গুড় উৎপাদন হয় মাত্র ৫ লাখ টন। অবশিষ্ট চাহিদা মেটানো হয় বাহিরের দেশ থেকে চিনি আমদানি করে।

সুগারবিট দিয়ে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি বিট ফিডার তথা পশু খাদ্য উৎপাদন করে দেশে পশু খাদ্য চাহিদা পূরন করা সম্ভব। তা ছাড়া সুগারবিট এর পাতা ও ডাটা দিয়ে সবুজ সার তথা জৈব সার করে জমির উর্বরতা বাড়ানো যাবে। এ অবস্থায় কৃষকদেরকে সুগারবিট চাষে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাক্টস মেনুফেকচারাস এসোসিয়েশন দেশব্যাপি প্রশিক্ষনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

আপনার মতামত জানান :

মন্তব্য করতে লগইন করুন. লগইন

(0)টি মন্তব্য

কেউ মন্তব্য করেনি :)